Bangla story |বাংলা গল্প | bangla Golpo

Sharing is caring!

এই প্রতিটা বাংলা গল্প \ Bengali stories হচ্ছে এক একটি অনুপ্ররোণাদায়ক। আপনি গল্পগুলো পড়লেই তা অনুভব করতে পারবেন। আমাদের চলার পথে অনেক বাঁধা আসে তা থেকে বের হবার জন্য অনেক উপাই খুজি কিন্তু আমরা তা পাই না সময় মত। আসলে আমরা ভুলে যাই ওইটাই আমাদের সঠিক ছিল নিজেকে গড়ে তোলার। আর পরীক্ষার মঞ্চ একটু কঠিন হলে ক্ষতি কি!। ওই কঠিন সময়ে ভালো গল্প পড়ে নিজেকে এগিয়ে নিয়ে যান আরো একদাপ। আর সবসময় আল্লাহ্‌ উপর ভরসা রাখুন!। 

Bengali stories | বাংলা গল্প  | bangla Golpo

 Bengali story list

১। এক পাউন্ড মাখন 

Bangla story |বাংলা গল্প  | bangla Golpo

এক কৃষক এক রুটি ওয়ালাকে এক পাউন্ড মাখন বিক্রি করেছিল। একদিন রুটিওয়ালা মাখন ওজন করে দেখল যে সেটি এক পাউন্ডের কম।রেগে গিয়ে সে চাষীর নামে কোটে নালিশ করল। জজ কৃষককে জিজ্ঞেস করল সে কোনও দাঁড়িপাল্লা ব্যবহার করেছে কিনা। কৃষক জবাব দিল, “হুজুর, আমি পুরোনো দিনের লোক,আমার দাঁড়িপাল্লা নেই, কিন্তু আমার একটা ওজন যন্ত্র আছে।”

জজ জিজ্ঞেস করল, “তা হলে তুমি মাখন মাপলে কী করে?” কৃষক জবাব দিল, “ হুজুর, আমার কাছ থেকে মাখন নেওয়ার অনেক আগে থেকেই একপাউন্ড রুটি নিই। রুটিওয়ালা রুটি আনলে আমি দাঁড়িপালার একদিকে রুটি চাপিয়ে অন্যদিকে মাখন চাপাই এবং রুটির পরিমান মত মাখন দিই।

যদি কম ওজনের জন্য কেউ দায়ী হয় তবে রুটি ওয়ালাই দায়ী।“

এই গল্পেটির নীতি বাক্য কী? আপরকে যাদিই আমরা জিবনে তাই ফিরে পাই। যখনই কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয় তখনই এই প্রশ্ন করা উচিত, আমি যা প্রত্যাশা করি তার যথার্থ মূল্য দিচ্ছি কি না।

সত্য ও অসততা কালক্রমে অভ্যাসে পরিণত হয়। কোনও কোনও ব্যক্তি অসততা অভ্যাস করে এবং মুখ বিকৃতি না করে মিথ্যা কথা বলে। আবার অনেকে এত মিথ্যা কথা বলে যে সত্য-মিথ্যার ভেদ রেখা মুছে যায়। কিন্তু তারা কাকে ছলনা করে ? নিজেদেরকেই – অন্যদের নয়।

সততা খুব শান্তভাবে তুলে ধরা দরকার। কোনও কোনও ব্যক্তি গর্বের সঙ্গে বেশ নির্মম ভাবে সৎ। মনে হয় তারা সততা অপেক্ষা নির্মমভাবে জন্যই বেশি আনন্দ পেয়ে থাকে। সততা প্রকাশের জন্য শব্দ চয়ন ও কুশলী হওয়া প্রয়োজন।

যা শুনতে চান সত্য সব সময় তা নাও হতেপারে

নিষ্ঠুর  না হয়েও সত্যবাদী হওয়া যায়, কিন্তু সব সময় তা হয়ত সম্ভব হয় না। একজন সৎ বন্ধুর সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব হোল সত্যবাদী হওয়া। কিছু ব্যক্তি বেদনাদায়ক সত্য এড়িয়ে যাওয়ার জন্য এমন বন্ধু নিবার্চন করেন যারা তারা যা শুনতে চান তাই বলবেন।

তারা শুধু নিজেদের ছলনা করেন, কারণ তারা মনে মনে জানেন যে তারা সত্য কথা বলেছেন না। সৎ সমালোচনা কষ্টদায়ক হতে পারে। যদি অনেকে পরিচিত এবং খুব স্বল্প সংখ্যক বন্ধু থাকে তাহলে স্থির চিতে সম্পর্কে পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন।

২। স্বার্থপর বন্ধু

একদা একটি খরগোশ বনের মধ্যে বসবাস করতো। তার অনেক বন্ধু ছিল। সে তার বন্ধুদের নিয়ে অনেক গর্ব করত। একদিন খরগোশটা শুনতে পেল অনেকগুলো বন্য কুকুরেরা ঘেউ ঘেউ আওয়াজ করতেছে এবং তার দিকে আসছে। সে সিদ্ধান্ত নিল যে সে তার বন্ধুদের কাছে সাহায্য চাইবে।  সে তারাতারি ছোটে তার বন্ধু হরিণের কাছে গেল।সে বলল “বন্ধু” কিছু বন্য কুকুর আমার পিছনে আসছে আমাকে ধরতে। দয়া করে তুমি তাদের ধাওয়া দাও, খরগোশ হরিণকে অনুরোধ করল”

হরিণ বলল,“আমি দুঃখিত! আমি অনেক ক্ষুধার্ত এবং কান্ত। আমার এখন খাবার খুজতে হবে। তুমি বানর এর কাছে যেয়ে সাহায্য চাও। হতাশ খরগোশ তার বন্ধু বানর, হাতি, ছাগল এবংঅন্যান্য সকল বন্ধুর কাছে গিয়েছিল। খরগোশ খুবই কষ্ট পেল কারণ তার কোনো বন্ধুই তাকে সাহায্য করতে তৈরী ছিল না।

খরগোশ বুঝতে পারলো যে তাকে নিজেকেই এই ফাদঁ থেকে হবার পথ বের করতে হবে। সে একটা ঝোপের মধ্যে লুকিয়ে থাকলো। খরগোশটা মাটির সাথে মিশে শুয়ে ছিল। বন্য কুকুররা তাকে আর খুজে পেলনা। খরগোশটাকে না পেয়ে অন্য প্রাণী ধরতে চলে গেল কুকুরগুলো।

খরগোশ উপলদ্ধি করতে পারলো যে তাকে শিখতে হবে কিভাবে মৃত্যুর হাত থেকে নিজেকে বাঁচিয়ে রাখা যায়, অন্য স্বার্থপর বন্ধুদের উপর ভরসা না করে।

৩। শক্তিশালী আর দুর্বল

বনের মধ্যে একটা অহংকারী সেগুন গাছ ছিল। সে ছিল লম্বা এবং শক্তিশালী। সেগুন গাছের পাশেই ছিলএকটা ছোট ঔষধি গাছ। একদিন সেগুন গাছ বলল “আমি দেখতে অনেক সুন্দর এবং শক্তিশালী।কেউ আমাকে হারাতে পারবে না। এই কথা শুনে ঔষধি গাছটা বলল, বন্ধু অতি বেশি গর্ব বা অহংকার ক্ষতিকর। এমনকি সকল শক্তিশালীকেও একদিন মাটিতে পড়তে হয়।

সেগুন গাছ ঔষধি গাছের কথার কোনো পাত্তাও দিল না। সে নিজের প্রশংসা নিজেই করতে থাকলো। একদিনএক শক্তিশালী বাতাস হচ্ছিল। সেগুন গাছ শক্তভাবে দাড়িয়ে ছিল। এমকি যখন অনেক বাড়ি বৃষ্টি হচ্ছিল তখনও। সেগুন গাছ শক্তভাবে দাড়িয়ে ছিল তার সম্পূর্ণ পাতা নিয়ে।

ঔষধি গাছ অল্প বাতাসেই গেলে ধুলে যাচ্ছে আর তা দেখে সেগুন গাছ মজা নিচ্ছিল। হঠাৎ একদিন, এক শক্তিশালী ঝড় শুরু হল বনের মধ্যে। ঔষধি গাছ হালকা ধুলতে লাগলো আগের মত করে, সেগুন গাছ নিজের শরীরকে ধুলালো না। 

ঝড়টা ক্রমাগত বেড়েই চলল। সেগুন গাছটা নিজের আর শক্তি ধরে রাখতে পারলো না। তার সকল শক্তি শেষ হয়ে গেল। সে তার সর্বচ চেষ্টা করেছিল দড়িয়ে থাকার জন্য। কিন্তু অবশেষে সে পড়ে গেল। এটাই ছিল সেই অহংকারী গাছের শেষ অবস্থা।

যখন সকল কিছু শান্ত হয়ে গেল, ওই ছোট ঔষুধি গাছটা আবার দাড়িয়ে গেল। সে তার চারপাশ তাকালো এবং দেখলো যে সেই শক্তিশালী অতি গর্বিত সেগুন গাছটি মাটিতে পড়ে আছে।

৪। অর্ধসত্য অথবা ভুলভাবে বর্ণিত সত্য থেকে সাবধান

একজন নাবিক যে তিন বছর ধরে একই জাহাজে কাজ করত, একদিন রাত্রে হঠাৎ মদ খেয়ে মাতাল হল। কর্মজীবনে তার প্রথম এরূপ ঘটনা ঘটল। ক্যাপ্টেন এটি লক্ষ্য করে খাতায় নথিভুক্ত করলেন যে, “নাবিক আজরাত্রে মাতাল হয়ে পড়েছিল।”

নাবিক এই মন্তব্য জানতে পারল, আজে এই মন্তব্য তার কর্মজীবনের উন্নতিতে বাধা হয়ে দাঁড়ায় – এই ভেবে সে ক্যাপ্টনের কাছে গিয়ে ক্ষমা চাইল। এবং তাকে অনুরোধ করল তিনি যেন ঐ মন্তব্যের সঙ্গে নাবিক যে তিন বছরের কর্মজীবনের মধ্যে মাত্র একবার মদ্যপান করেছে—তা যুক্ত করেন।

ক্যাপ্টেন নাবিকের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করলেন এবং বললেন “আমি খাতায় যা লিখেছি তাই সত্য”। এর পরের দিন ঐনাবিকের পালা ছিল খাতায় দৈনন্দিন দিনের ঘটনা করার। ক্যাপ্টন এটি পড়ে নাবিককে মন্তব্যটি পরির্বতন করতে বা এটির সঙ্গে আরো কিছু মন্তব্য যোগ করতে বললেন।

কারণ এই মন্তব্যটি এই অর্থ প্রকাশ করে যে ক্যাপ্টেন রোজই মাতাল হয়, ব্যতিক্রম আজ রাত্রি। কিন্তু নাবিকও ক্যাপ্টেনের এই অনুরোধ প্রত্যাখান করল।

অতিরঞ্জন

১) এটি কোন ব্যক্তির অবস্থানকে দুর্বল করে তোলে এবং তার বিশ্বাসযোগ্যতাকে হ্রাস করে।

২) এটি নেশার মত যা ক্রমে অভ্যাসে পরিণত হয়। কিছু ব্যক্তি অতিরঞ্জিত ব্যতীত সত্য বলতে পারে না।

আন্তরিক হোন

আন্তরিকতা ইচ্ছারব্যাপার, এবং প্রমাণ করা মুশিকল। অপরকে সাহায্য করার আন্তরিক ইচ্ছা থাকলে আমরাআমাদের লক্ষ্যে পৌছতে পারি।

৫। গুনবত্তা বজায় রাখুন

এক ব্যক্তি গোলাপ ফুলের চারাগাছ লাগালেন! উনি প্রতি দিন সেই চারাগাছে জল দিতেন আর এমনটা আশা করছিলেন যে, ওনার চারাগাছে শীঘ্রই গোলাপ ফুল আসবে! উনি রোজ এই অপেক্ষায় মুহূর্ত গুনতেন যে, আজ গোলাপ ফুল দেখতে পাওয়া যাবেই…… কিন্তু গোলাপ ফুল এল না!

কিছু সময় পরে সেই চারাগাছ বড় হয়ে উঠল আর তাতে তীক্ষ্ণ কাঁটা আসা শুরু হয়ে পড়ল! ব্যক্তি এই দেখে অস্থির হয়ে উঠলেন আর উনি এমনটা চিন্তা করতে লাগলেন যে, এই তীক্ষ্ণ কাঁটার মধ্যে গোলাপ ফুল কিকরে আসবে? তা সত্বেও উনি চারাগাছে পানি দেওয়া চালিয়ে গেলেন…… কিন্তু গোলাপ ফুল দেখতে পাওয়া গেল না!

সেই ব্যক্তি এক দিন প্রচন্ড রেগে উঠলেন আর চারাগাছে পানি দেওয়া বন্ধ করে দিলেন! এমনটা সেই সময় হল, যখন চারাগাছে গোলাপ ফুলের কুঁড়ি আসা শুরু হয়ে পড়েছিল! পানি দেওয়া বন্ধ করে দেওয়ার কারণে চারাগাছের বিকাশ অবরুদ্ধ হয়ে পড়ল আর চারাগাছ মারা গেল!

আমরা নিজেদের ভেতর থেকে কখনো উঁকি মেরে দেখি না আর নিজেদের ভালো জিনিসগুলোকে নিজেরাই লুকিয়ে রাখি এবংসময়ে-সময়ে তাতে পানি দেই না… যার ফলে আমাদের ভালো জিনিসগুলো মারা যায়!

৬। প্রতিটি দিন…… প্রথম দিন

সীমা হচ্ছেন এক ব্যবসায়ী মহিলা! শহরে ওনার এক প্রতিষ্ঠিত দোকান রয়েছে! ব্যবসায় প্রতি ওনার ইতিবাচক এবংউৎসাহী মনোভাব দ্বারা লোকেরা প্রভাবিত হয়ে ওঠেন! এক দিন ওনার এক বান্ধবী ওনাকে ওনার এমন মনোভাবের রহস্যের ব্যাপারে প্রশ্ন করলে ওনার জবাব অত্যন্ত আলাদা প্রকারেরছিল!

অধিকাংশ লোক এমনটা বলে থাকেন যে, জীবনের প্রতিটি দিন এমন ভাবে কাটান…যেন সেটাই জীবনের শেষ দিন! কিন্তু সীমা বললেন যে উনি নিজের দোকানে প্রবেশ করার সময় নিজের প্রতি এক প্রতিশ্রুতি করেন যে, উনি আজও সেই একই ভাবনার কাজ করে চলবেন…যেমনটা প্রথম দিন করেছিলেন!

উনি নিজের দোকানের ছোট খরিদ্দার আর বড় খরিদ্দার – প্রত্যেককে এক রকমের সম্মান প্রদান করেন! ওনার দোকানে এসে কোন খরিদ্দারই নিরাশ হন না! এর ফলে বাজারে ওনার প্রতিষ্ঠান বেড়েই চলেছে…কারণ যে খরিদ্দার আজ ওনার দোকানে কম  জিনিস কিনেন… তিনিই আগামীকাল বেশি জিনিস কিনতে পারেন!

প্রতিটি দিনকে প্রথম দিন মনে করায় ওনার ভেতরে অহংকার আসে না!… কাজ এড়িয়ে চলার অভ্যাস সৃষ্টি হয় না আর এমন প্রভাব দোকানের কর্মচারীদের ওপরেও পড়ে!

৭। বিশ্বাসের জাদু   

নেপোলিয়ন বেনাপোলের জীবনের এক অত্যন্ত প্রসিদ্ধ উদাহরণ – একবার প্রতিপক্ষ সেনার এক দূর্গে নেপোলিয়নকে ওনার কিছু সৈনিকের সাথে ঘিরে ফেলেছিল! সেখান থেকে বেঁচে বেরিয়ে আসার কোন আশাই ছিল না!এমন পরিস্থিতিতে নেপোলিয়ন নিজের ঘোড়ার পিঠে চেপে বসে একাই সেই দূর্গ থেকে রেরিয়ে এসেছিলেন!

দূর্গের রাইরে রেরিয়ে আসার পরে নেপোলিয়ন গর্জে উঠে নিজের সৈনিকদের উদ্দেশ্য বলেছিলেন – “সেপাইরা! নিজেদের জেনারেলের পেছনে পেছনে এসো!” এটা জেনে অত্যন্ত আশ্চর্য হয়ে উঠবেন যে, প্রতিপক্ষ অধিকাংশ সৈনিক বিনা প্রতিরোধে নেপোলিয়নের পক্ষে হয়ে এসেছিলেন!

জীবন-মরণের পরিস্থিতিতে…… যখন বাঁচার আর কোন আশাই থাকে না, বিশ্বাসের জোরে পরিস্থিতিকে পরিবর্তন করার এক জ্বলন্ত দৃষ্টান্ত! এর থেকে এটা জানতে পারা যায় যে, অন্যন্ত নিরাশাজনকপরিস্থিতিতেও আশা ত্যাগ না করা ব্যক্তিদের ব্যর্থতার মুখোমুখি হতে হয় না!

bangla motivational image |  bangla motivational quotes

এই প্রকারের এক প্রবাদ বাক্য অত্যন্ত প্রসিদ্ধ – “ডুবন্ত ব্যক্তি খড়-কুটোকেও আঁকড়ে ধরে বাঁচার চেষ্টা করে!” একটু ভেবে দেখুন যে, কোন ডুবন্ত ব্যক্তিকে কি কোন খড়-কুটো বাঁচাতে পারে? জবাব হচ্ছে – বিশ্বাসের জাদু সব কিছুই সম্ভব করে তুলতে পারে!

Summary
Bangla story | বাংলা গল্প | bangla Golpo
Article Name
Bangla story | বাংলা গল্প | bangla Golpo
Description
এক কৃষক এক রুটি ওয়ালাকে এক পাউন্ড মাখন বিক্রি করেছিল। একদিন রুটিওয়ালা মাখন ওজন করে দেখল যে সেটি এক পাউন্ডের কম।রেগে গিয়ে সে চাষীর নামে কোটে নালিশ করল
Author
Publisher Name
Bangla Amader
Publisher Logo

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

shares