Surah Fatiha in Bangla – (সূরা ফাতিহা) – Alhamdulillah Surah

Sharing is caring!

Alhamdulillah Surah – Surah Fatiha in Bangla – (সূরা ফাতিহা)

Surah fatiha introduction | সূরা ফাতিহা পরিচিতি

সূরা ফাতিহা কুরআন মাজিদের বর্তমান বিন্যাস অনুযায়ীই সর্বপ্রথম সূরা নয়; রবং সর্বপ্রথম পুর্ণঙ্গ রূপে যে সূরা নাযিল হয়েছে তা এটিই। এর আগে একত্রে পূর্ণাঙ্গ কোন সূরা নাযিল হয়নি। কোন কোন সূরার অংশবিশেষ নাযিল হয়েছিল। 

এ সুরাকে কুরআন মাজিদের শুরুতে স্থান দেওয়ার উদ্দেশ্য সম্ভবত এই যে, যে ব্যক্তি কুরআন মাজিদের মাধ্যমে হিদায়াত লাভ করতে চায়, তার কর্তব্য সর্বপ্রথম এই যে, ব্যক্তি কুরআন মাজিদের মাধ্যমে হিদায়াত লাভ করতে চায়,

তার কর্তব্য সর্বপ্রথম নিজ সৃষ্টিকর্তা ও মালিকের গুণাবলীকে স্বীকার করতঃ তার শুকুর আদায় করা এবং একজন প্রকৃত সত্য – সন্ধানীরূপে তাঁর কাছেই হিদায়াত প্রার্থনা করা।

তাই আল্লাহ্‌ তায়ালার কাছে একজন সত্য – সন্ধানীর যে দু’আ ও প্রার্থনা করা উচিত তা সূরায় শেখানো হয়েছে, আর তা হল সরল পথের দু’আ। এভাবে ও সূরায় যে সিরাতে মস্তাকীম বা সরল পথের প্রার্থনা করা হয়েছে। তা কোন পথ, সমগ্র কুরআন তারই ব্যাখ্যা। 

Surah Fatiha Translation in Bangla | সূরা ফাতিহা অনুবাদ

সূরা ফাতিহা

মক্কী – ৫  | আয়াত – ৭, রুকূ – ১ 

আল্লাহ্‌র নামে শুরু, যিনি সকলের প্রতি দয়াবান, পরম দয়ালু। 

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম

بِسْمِ ٱللَّهِ ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ

১। সমস্ত প্রশংসা আল্লাহ্‌র, যিনি জগত সমূহের প্রতিপালক। 

আলহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন

ٱلْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ ٱلْعَٰلَمِينَ

২। যিনি সকলের প্রতি দয়াবান, পরম দয়ালু, 

আররাহমানির রাহিম

ٱلرَّحْمَٰنِ ٱلرَّحِيمِ

৩। যিনি কর্মফল – দিবসের মালিক। 

মালিকি ইয়াও মিদ্দিন

مَٰلِكِ يَوْمِ ٱلدِّينِ

৪। [ হে আল্লাহ্‌ ] আমরা তোমারই ইবাদত করি এবং তোমারই কাছে সাহায্য চাই। 

ইয়্যাকা না’বুদু ওয়া ইয়্যাকা নাস্তাঈন

إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِينُ

৫। আমাদের সরল পথে পরিচালিত কর। 

ইহ্দিনাস সিরাত্বল মুসতাক্বীম

ٱهْدِنَا ٱلصِّرَٰطَ ٱلْمُسْتَقِيمَ

৬। সেই সকল লোকের পথে, যাদের প্রতি তুমি অনুগ্রহ করেছ। 

সিরাত্বল্লাজীনা আন্ আ’মতা আলাইহিম

صِرَٰطَ ٱلَّذِينَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ

দ্য

৭। ওই সকল লোকের পথে নয়, যাদের প্রতি গযব নাযিল হয়েছে এবং তাদের পথেও নয়, যারা পথহারা।   

গা’ইরিল মাগজূবি আলাইহিম ওয়ালাজ ওয়ালাজ্ জ্বা-ল্লীন 

 غَيْرِ ٱلْمَغْضُوبِ عَلَيْهِمْ وَلَا ٱلضَّآلِّينَ

Surah Fatiha Tafseer Bangla | সূরা ফাতিহা তাফসির

১। আরবী নিয়ম অনুসারে  “ রহমান” এর অর্থ সেই সত্তা যার রহমত ও দয়া অত্যন্ত প্রশস্ত ( Extensive), অর্থাৎ যার রহমত দ্বারা সকলেই উপকৃত হয়। আর “রহিম” অর্থ সেই সত্তা, যার রহমত খুব বেশি ( Intensive), অর্থাৎ যার প্রতি তা হয়, পরিপূর্ণরূপে হয়। দুনিয়ার আল্লাহ তাআলার রহমত সকলেই ভোগ করে।

মুমিন ও কাফির নির্বিশেষে সকলেই তা দ্বারা সকলেই উপকৃত হয়। সকলেই রিযক পায় এবং দুনিয়ায় নেয়ামতসমূহ দ্বারা সকলেই লাভবান হয়। 

আখিরাতে যদিও কাফিরদের প্রতি রহমত হবে না, কিন্তু যাদের প্রতি (অর্থাৎ মুমিনদের প্রতি) হবে, পরিপূর্ণরূপে হবে। ফলে সেখানে নেয়ামতের সাথে কোন রকমের দুঃখ – কষ্ট থাকবে না। 

রহমান ও রহিম – এর অর্থের মধ্যে এই যে পার্থক্য, এটা প্রকাশ করার জন্যই রহমান এর তরজমা করা হয়েছে ‘সকলের প্রতি দয়াবান’ আর  রহিম – এর তরজমা করা হয়েছে ‘ পরম দয়ালু’। 

২। আপনি যদি কোন ইমারতের প্রশংসা করেন, তবে প্রকৃত সে প্রশংসা হয় ইমারতটির নির্মাতার। সুতরাং এই সৃষ্টিজগতের যে – কোনও প্রশংসা করা হলে পরিণাম সে পেশংসা হয় আল্লাহ তায়ালার, যেহেতু সে বস্তু তাঁরই সৃষ্টি। জগতসমূহের প্রতিপালক বলে সে দিকেই ইশারা করা হয়েছে।

মানব ঝট, জীব জগত, জড় জগত ও উদ্ভিত জগত থেকে শুরু করে নভোমণ্ডল, নক্ষত্রমণ্ডল ও ফিরিশতা পর্যন্ত সব কিছুর সৃজন ও প্রতিপালক আল্লাহ্‌র তায়ালারই কাজ। এসব জগতের মধ্যে যা কিছু প্রশংসাযোগ্য আছে, আল্লাহ্‌ তাঅ্যালার্ম সৃজন ও রবূবিয়্যাতের মহিমার কারণেই তা প্রশংসা যোগ্যতা লাভ করেছে। 

৩। কর্মফল দিবস বলতে সেই দিনকে বোঝানো হয়েছে যে দিন সমস্ত বান্দাকে পার্থিব জীবনের যাবতীয় কৃতকর্মের বদলা দেওয়া হবে। এমনিতে তো কর্মফল দিবসের আগেও সৃষ্টিজগতের সমস্ত কিছুর প্রকৃত মালিক আল্লাহ তাআলাই। তবে তিনি দুনিয়ার মানুষকেও বহু কিছুর মালিকানা দান করেছেন।

যদিও তাদের সে মালিকানা অসম্পূর্ন সাময়িক, তারপর আপাতদৃষ্টিতে তাকে মালিকানাই বলা হয়ে থাকে। কিন্তু কিয়ামত – দিবসে যখন শাস্তি ও পুরস্কার দানের সময় এসে যাবে, তখন এই অসম্পূর্ন ও সাময়িক মালিকানা খতম হয়ে যাবে।

সে দিন বাহ্যিক মালিকানা আল্লাহ্‌ ছাড়া কারও কাছে থাকবে না। এ কারণেই এ স্থলে আল্লাহ্‌ তাআলাকে বিশেষভাবে কর্মফল দিবসের মালিক বলা হয়েছে। 

৪। এর দ্বারা বান্দাদেরকে আল্লাহ্‌ তাআলার কাছে দু’আ করার নিয়ম শেখানো হয়েছে। সেই সঙে এটাও পরিষ্কার করে দেওয়া হয়েছে যে, আল্লাহ্‌ তাআলা ছাড়া অন্য কেউ কোন রকমের ইবাদত – উপাদনার উপযুক্ত নয়। আরও জানানো হচ্ছে, প্রতিটি কাজে প্রকৃত সাহায্য আল্লাহ্‌ তাআলার কাছেই চাওয়া উচিত।

কেননা যথার্থভাবে কার্য- নির্বাহকারই তিনি ছাড়া আর কেউ নেই। দুনিয়ার বিভিন্ন কাজে যে অনেক সময় মানুষের কাছে সাহায্য চাওয়া হয়, তা এই বিশ্বাসে চাওয়া হয় না যে, সে কর্মবিধায়ক। বরং এক বাহ্যিক ‘কারণ’ মনে করেই চাওয়া হয়।      

Surah Fatiha Fazilat Bangla| সূরা ফাতিহার ফজিলত সমূহ

১। ইবনে আববাস (রা.) বলেন, একদা রাসূলুল্লাহ (সা.) এর কাছে জিবরাঈল (আ.) উপস্থিত ছিলেন। হঠাৎ জিবরাঈল (আ.) ওপর দিকে এক শব্দ শুনতে পেলেন এবং চক্ষু আকাশের দিকে করে বললেন, এ হচ্ছে আকাশের একটি দরজা যা পূর্বে কোনদিন খোলা হয়নি। আরো জানতে পেতে এখানে চলে যান

সে দরজা দিয়ে একজন ফেরেশতা অবতীর্ণ হলেন এবং রাসূলুল্লাহ (সা.) এর কাছে এসে বললেন, ‘আপনি দু’টি নূরের সুসংবাদ গ্রহণ করুন। যা আপনাকে প্রদান করা হয়েছে। তা আপনার পূর্বে কোন নবীকে প্রদান করা হয়নি। তা হচ্ছে সূরা ফাতিহা এবং সূরা বাকারার শেষ দু’আয়াত। মুসলিম শরীফ : ৮০৬

২) উবাই ইবনু কা‘ব (রা.) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘আল্লাহ উম্মুল কুরআনের মত তাওরাত ও ইনজিলে কিছু নাযিল করেননি।

এটিকেই বলা হয়, ‘আস-সাব‘উল মাছানী’ (বারবার পঠিত সাতটি আয়াত), যাকে আমার ও আমার বান্দার মধ্যে বণ্টন করা হয়েছে। আর আমার বান্দার জন্য তাই রয়েছে, সে যা চাইবে’। নাসায়ী শরীফ : ৩১৯

Sources:

১। তাওযীহুল কুরআন

২। মুসলিম শরীফ

নাসায়ী শরীফ

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

shares