পডকাস্ট কি? কিভাবে করবেন? কিভাবে এবং কোথায় থেকে আয় করবেন?

পডকাস্ট কি? কিভাবে করবেন? কিভাবে এবং কোথায় থেকে আয় করবেন?

Sharing is caring!

আমাদের মাঝে অনেকেই আছে যাদের প্রথম প্রশ্ন থাকে, ভাই পডকাষ্ট মানেটা কি? তাই তাদের জন্য বলে দেওয়া, পডকাষ্ট মানে হচ্ছে একটি ডিজিটাল অডিও ফাইল যা ইন্টারনেটে একটি কম্পিউটার বা মোবাইল ডিভাইসে ডাউনলোড করার জন্য পাওয়া যায়, সাধারণত একটি সিরিজ হিসাবে পাওয়া যায়, যার নতুন ইনস্টলমেন্টগুলি গ্রাহকদের দ্বারা স্বয়ংক্রিয়ভাবে গ্রহণ করা যেতে পারে। নিচে আরো সহজ করে ব্যাখ্যা দেওয়া আছে।  

আজকাল আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে সব জায়গায় হক সেটা দূর দেশের আমেরিকা কিংবা পাশের দেশ ভারতে। সবার সাথে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে আমাদের দেশও। যুদি কিছু কিছু জিনিস আমাদের কাছে এখনও নতুন মনে হয়।

এই যেমন পদকাস্ট নামটা, অনেকে আমাকে বলে ভাই এইটা আবার কি আগে তো নাম শুনি নাই। আমিও একটু ভাব নিয়ে চিন্তা করি যাক আমি মনে হয় অনেক নতুন কিছু অনেক মানুষের আগেই শিখে গেছি। 

যে যাইহোক, এখন সময়ের মূল্য দেয়া শিখে গেছি আমরা এই যেমন দরুন আগে একটা সুন্দর অনুষ্ঠান দেখার জন্য কতটা সময় অপেক্ষা করতাম টেলিভিশনের সামনে , এখন কি মানুষ তা করে? আসলে তা করে না কারণ সবাই জানে একটু ইউটিউব ঘটলেই সেই পছন্দের অনুষ্ঠানটা সেখানেই পাওয়া যাবে। আবার রেডিও ক্ষেতেও ঠিক একই কথা। 

মানুষ এখন এতোটাই ব্যস্ত যে তারা এক সাথে দুই কাজ করতে চাই। তাই না? পডকাস্ট ও ওইরকমই কিছু, যেখানে আপনি আপনার শুধুমাত্র একটি ইন্দিয় ব্যবহার করে আপনার প্রয়োজনীয় জিনিস শুনতে পারবেন। আর এর জন্য আপনার তেমন কোন টাকা খরচ করতে হবে না।

তাছাড়া আপনি নিজে চাইলে পডকাস্ট নিয়ে কাজ করতে পারেন যা আমরা একটু পরে আরো সহজ করে বলছি। আর সবচেয়ে ভালো ব্যপার হল এটি এখনও শিশু অবস্থায় আছে যেটা ইংরেজিতে বলে childbirth যা কিনা দিন দিন খুব তাড়াতাড়ি বড় হচ্ছে। 

Podcast | পডকাস্ট কি? 

Podcast | পডকাস্ট দুটি ভিন্ন ভিন্ন শব্দ একত্রিত হয়ে এই পডকাস্ট হয়েছে। মূলত পডকাস্ট কথাটি এসেছে অ্যাপল এর খুবই জনকপ্রিয় মিউজিক ডিভাইস “ipod” থেকে  পড এবং “Brodcast” থেকে কাস্ট এসেছে।

এই পডকাস্ট কথাটি প্রথম ব্যবহার করেন ২০০৪ সালে ব্রিটিশ তথ্য প্রযুক্তিবিদ, লেখক, সাংবাদিক ব্রডকাস্টার বেন হ্যামার্সলি ( Ben Hammerlsy) গার্ডিয়ান প্রত্রিকায় একটি আর্টিকেলে এই Podcast শব্দটি লিখেন।  

 পডকাস্ট হল একটি অডিও সিরিজ বা শো যেটা মোবাইল কিনবা  কম্পিউটার অথবা ট্যাবেও শুনা যেতে পারে যেকোনো সময় এবং যেকোনো পরিস্থিতিতে। 

এছাড়া, পডকাস্ট ফাইলগুলো এর সাথে শুধুমাত্র একটা ইমেজ ব্যবহার করে ওইটাকে ভিডিও ফরম্যাটে করে ইউটিউব এবং ফেইসবুকে উপলোড করা যায় যেটা আমি করে থাকি। 

অন্যভাবে বলা যায়, ধরুন আপনি ভালো এস ই ও পারেন। এখন আপনি চাইছেন যে আপনার এই জানা বিষয়গুলো বিভিন্ন মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে, এবং সেটা যেন করা যায় অতি সহজে। আপনার জন্য এবং যারা শিখতে তাদের জন্যও সবচেয়ে ভালো মাধ্যম হতে পারে পডকাষ্ট।

আর এই পডকাষ্টের দ্বারা আপনি পাচ্ছেন আপনার প্রত্যাশিত শ্রোতা যারা কিনা আপনাকে শুনে শিখতে পারছে। বলা হয়ে থাকে যারা একবার পডকাষ্ট শুনা শুরু করে তারা ওই পডকাষ্টের সিরিস শুনা চালিয়ে যায়। 

কি বিষয় নিয়ে পডকাষ্ট করবেন? 

সাধারনত বলা হয়ে থাকে কোনো নির্দিষ্ট একটি বিষয়ে উপড়ে সিরিস আকারে পডকাষ্ট করা। সেটা হতে বুক রিভিউ, পেসিভ ইনকাম, অডিও বুক, বিষয় ভিত্তিক উপদেশ এবং কারও ইন্টারভিউ ইত্যাদি জিনিস। মোট কথা আপনি যেটাতে ভালো জানেন ওই সব বিষয় নিয়ে আপনি শুরু করতে পারেন। 

কিন্তু মনে রাখতে হবে এমন যেন না হয় যা ভিডিও মত বলা হয়ে যায়, যেমন আপনি বললেন আপনি এখন দেখছেন আমরা একটা সুন্দর পাহাড়। এই সব বলা যাবে না কারণ আপনার শ্রোতারা কিন্তু আপনাকে দেখছে না তারা আপনাকে শুনছে। সুতরাং এইসব চোখে দেখার মত কথাগুলো বাদ দিতে হবে।  

আগে দেখে হতাকবেন মানুষ জন্য অনেক রেডিও শুনত এখনও শুনে এমনকি আমি আপনি রেডিও শুধু শুনি সংবাদ শুনার জন্য। আবার ভালো ভালো কিছু গল্প কাহিনী শুনার জন্য।

বর্তমানে এইসব কিছু আপনি এখন পডকাষ্টের মাধ্যমে ও পেতে পারেন। অনেক পডকাষ্টটারা আছে যারা প্রতিনিয়ত পডকাস্ট তৈরি করে শ্রোতাদের সুন্দর সুন্দর তথ্য এবং গল্প ইত্যাদি দিয়ে মুগ্ধ করে রাখে।

আর সবচেয়ে মজার ব্যবপার হল একটা রেডিও ষ্টুডিও তৈরি করতে অনেক খরচ হয় এবং অনেক লোকের ও প্রয়োজন কিন্তু পডকাষ্ট হল সম্পর্ন ভিন্ন জিনিস। এখানে এতো বড় ষ্টুডিও লাগে না এবং অনেক লোকের ও প্রয়োজন হয় না। আপনি নিজে নিজেই এটি তৈরি করতে পারবেন খুব সহজে। 

পডকাষ্টের সুবিধাগুলো কি কি ? 

ক। আপনি যেকোনো জায়গাতে এটি শুনতে পারবেন, এর জন্য আপনাকে ভারি কিছু বহন করতে হবে শুধু আপনার মোবাইল থাকলেই চলবে এবং চার্জ।

খ। আপনি যদি আপনার প্রিয় কোনো ব্যক্তির গল্প শুনতে পছন্দ করেন তাহলে তাকে সাবস্ক্রাইব রাখলে সেই সিরিজের যুদি নতুন কোনো এপিসোড দেয়া হয় এবং আপনার মোবাইল ইন্টারনেট থাকে তাহলে ওই এপিসোড ডাউনলোড হয়ে যাবে। 

গ। আপনি নিজে যেকোন জায়গাতে বসে আপনার পছন্দের বিষয়ের উপর পডকাষ্ট তৈরি করতে পারেন অতি সহজে। আপনার মোবাইলেই আপনি আপানর এপিসোড তৈরি করতে পারবেন। 

ঘ। পডকাষ্ট রেডিও থেকে আলাদা কারণ আপনি চাইলে যেকোন শিক্ষামূলক বিষয় নিয়ে পডকাষ্ট তৈরি করতে পারেন এটা পারে বিনোদন বিষয় ছাড়াও এবং এইটাও জনকপ্রিয় হতে পারে। 

কিভাবে পডকাষ্ট তৈরি করবেন? 

পডকাষ্ট তৈরি করা তেমন কোনো ব্যপার না। আপনি খুব সহজেই তা তৈরি করাতে পারবেন। শুধু মাত্র দুটা জিনিস আপনার লাগবে। 

১। মাইক্রোফোন 

Boya microphone review
YouTube Video Microphone For Smartphone, PC And DSLR- (BOYA BY-MM1)

বাজারে হাজার হাজার মাইক্রোফোন আছে কিন্তু আপনার জন্য কোনটা ভালো হবে। যুদি আপনি খুব প্রফেশনালর পডকাস্ট করতে চান তাহলে আপনার একটা ভালো মাইক্রোফোন দরকার হবে। কিন্তু আপনি কাজ শুরু জন্য Boya মাইক্রোফোনটা ব্যবহার করতে পারেন। 

অনেক বড় বড় ইউটিউবরাও এই মাইক্রোফোন ব্যবহার করে থাকে। এইটা একটা কনডেসার মাইক্রোফোন। কনডেসার মাইক্রোফোন হল যেটার মাধ্যমে ছোট ছোট শব্দও রেকর্ড হয়ে যায়। যেহেতু ডাইনামিক মাইক্রোফোনের দাম বেশি তাই আপনি এখন Boya ( কিনে নিন এখান থকে) ব্যবহার করতে পারেন আমিও এইটাই ব্যবহার করছি। 

কোথায় পাবেন এই মাইক্রোফোন? 

আপনি চাইলে অনলাইন থেকে কিনতে পারেন। যদিও অনলাইনে অনেক দোকা থাকে তাই আমার এবং অনেক বাংলাদেশি ইউটিউবরা যেই সাইটে থেকে এইসব প্রয়োজনীয় জিনিস কেনে সেই হল bdshop ( লিঙ্ককে ক্লিক করুন ) ।

তাছাড়া আপনি চাইলে সরাসরি মার্কেট থেকেও কিনতে পারেন কিন্তু আপনি যুদি জামেলা পোহাতে না চান আমার তাহলে অনলাইন থেকে অর্ভার করতে পারেন। 

সফটওয়্যার 

Audacity Download

অনলাইনে অনেক অডিও সফটওয়্যার আছে কিন্তু আমার আছে সহজ এবং অনেক সুন্দর করে কাজ করার মত অডিও সফটওয়্যার হল Audacity ( এইটা সম্পর্ন ফ্রি এর জন্য টাকা লাগবে না বা অন্য কোনো জামেলা পোহাতে হবে না) ।

শুধু যে আমার কাছেই এই সফটওয়্যারটা ভালো লাগে ব্যাপারটা এমন না আমিও অন্য সবার মত অনেক রিভিউ দেখে এবং বুঝে একটা এবং সাথে অনেক ফিয়েচার আছে এমন সফটওয়্যার নির্বাচন করেছি।

তাই আমি আপনাকে বলবো আপনি অন্য ভারি সফটওয়্যারের দিকে না গিয়ে Audacity ব্যবহার করুন কারণ আপনি খুব সহজেই এইটা শিখে নিতে পারবেন। 

কিভাবে পডকাস্ট থেকে আয় করা যায়?

পডকাষ্ট থেকে বিভিন্নভাবে আয় করতে পারেন আপনি এবং এর সাথে আপনি আপনার গলাটাকেও আরো শানিয়ে নিতে পারবেন। তাহলে চলুন আপনাকে সেরা তিনটি উপায়ের এবং জায়গায় কথা বলে দেই আয় করার জন্য। 

১। Anchor.fm থেকে আয় 

Anchor Podcast review
Anchor . fm

যুদি শুধু অডিও পডকাষ্ট এর কথা বলি তাহলে Anchor হতে পারে আপনার জন্য সবচেয়ে সেরা উপায়। সেখানে আপনি আপনার অডিও আপলোড করে টাকা আয় করতে পারেন।

হয়তোবা, আপনি আগে এই সাইট এর নাম শুনেননি। কিন্তু এই সাইটা পুরো পৃথিবীতে অনেক জনকপ্রিয়। আর ধীরে ধীরে আরো অনেক বড় হচ্ছে এইটা।  

যেহেতু এখানে আপনার ফাইল বা অডিও আপলোড করার জন্য কোনো টাকা দিয়ে হয় না, উলটো আপনি টাকা পাবেন যতবার মানুষ শুনবে আপনার অডিও এবং ডাউনলোড করবে, এর থেকে ভালো এঁর কি হতে পারে বলুন?

আপনি বলতেই পারেন যে আরো অনেক তো পডকাস্ট সাইটে আছে, আমিও বলছি আছে কিন্তু ওইগুলো আপনাকে monitization বা আয় কারার জন্য সুযোগ দিবে যখন আপনি ওইখানে থেকে আলাদা জায়গা কিনবেন আপনার অডিও রাখার জন্য। 

Anchor প্রতিবাড় শুনতে কত টাকা বা ডলার দেয় তাইতো আপনি জানতে চাইতেছেন? তাহলে আপানর জন্য আছে খুশির খবর তাহল Anchor এর উপলোড করার পর যখন আপনি monitization অন করবেন তখন প্রতিবার কেউ যুদি এইটা শুনে তাহলে আপনি ১ সেন্ট করে পাবেন।

১৫ ডলার হলে আপনি টাকা উঠাতে পারবেন। আর এই টাকা আপনি আপনার ব্যাঙ্ককে সরাসরি নিতে পারবেন। আমরাও আমাদের পডকাস্ট ওইখানে আপলোড করি লিঙ্ক দেওয়া হলো

আপনি যুদি আরো জানতে চান Anchor সম্পর্কে তাহলে নিচে কমেন্ট করুণ এবং শেয়ার করুণ তাহলে আমি আপনাদের জন্য Anchor নিয়ে আরো গভীরভাবে আলোচনা করবো। 

২। Youtube থেকে আয়

Earn MOney From Youtube
Make Money Online

আপনি যেকোনো একটা টপিক এর জন্য সিন্ধান্ত নিবেন তারপর ওই টপিক এর উপর আগে অডিও রেকোড করুণ তারপর Anchor এ ছাড়ুন সাথে একটু ভিডিও এডিটিং করে এবং কিছু ইমেজ ব্যবহার করে ( কোথায় ফ্রি ইমেজ পাবেন? এইখানে যান সব ফ্রি সাইট এর লিস্ট পেয়ে যাবেন) আপনি ইউটিউব আপলোড করতে পারবেন।

মাজার ব্যপার হল ইউটিউব কপিরাইট বেশি দেয় ভয়েছ এর জন্য নাকি ইমেজ এর জন্য তাই আপনি যুদি আপনার ভয়েস/ কণ্ঠ আগে তৈরি করতে পারেন তাহলে আপনার টাকা আয় করার অনেক রাস্তা খুলে যাবে।

আপনি আপনার এই ভয়েস/ কণ্ঠ দিয়ে অনেক ইউটিউব থেকে কাজও নিতে পারবেন। আপনি যুদি ইংরেজিতে ভালো এবংকরে সুন্দর করে বলতে পারেন তাহলেতো কথাই নেই। আপনি অনেক এগিয়ে যাবেন। এই যেমন আমরা ইউটিউব এ ভিডিও আপলোড করি নিচে দেখুন এবং আমাদের চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করতে পারেন।

৩। Facebook Video  থেকে আয়

Make Money With Facebook
ফেইসবুক থেকে ও আয়

ফেইসবুক থেকে ও আয় করতে পারবেন একইভাবে। ভালো হয় অডিওটাকে আবারো কিছু ইমেজ দিয়ে ভিডিও এডিটিং করুণ এরপড় ফেইসবুকে ভিডিও উপলোড করুন।  যুদিও আপনি চাইলে আপনার ইউটিউব ভিডিও টাই ফেইসবুক ভিডিও হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন এবং এর সাথে বাড়টি কিছু আয় করতে পারেন। আমাদের ফেইসবুক পেইজটা দেখে আসুন এবং লাইক দিয়ে রাখুন আপনার ধারনা হয়ে কিভাবে করতে হয়।

আপনি যদি সব কিছু আরো ভালোভাবে জানতে চান তাহলে নিচে কমেন্ট করুন এবং আপনার সকল প্রশ্নের উওর দেওয়ার চেষ্টা করবো।   

সর্বশেষ, পডকাস্ট আমাদের আছে নতুন হলেও ইউরোপ, আমেরিকা মূলত ওয়েস্টটার্ন দেশেগুলতে আরো আগে থেকেই শুরু হয়েছে পডকাষ্ট। আপনি যুদি এখন শুরু করেন দেখবেন একসময় সবাই আপনাকে অনুসরণ করা শুরু করবে। আর‍ ইউটিউব, ফেইসবুক থেকেও ঢের বেশি টাকা আয় করতে পারবেন পডকাষ্টে থেকে।   

You May Also Like

2 thoughts on “পডকাস্ট কি? কিভাবে করবেন? কিভাবে এবং কোথায় থেকে আয় করবেন?

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

shares
error: Content is protected !!