অ্যারিষ্টটলের জীবনী | Biography of Aristotle Bangla

Sharing is caring!

 আধুনিক জীবনবিজ্ঞানের কোন নাম জানতে চাই! তাহলে সবার আগে যে নামটা আসে তা হল অ্যারিষ্টটল , যাকে বলা হয় জীবনবিজ্ঞানের জনক। অ্যারিষ্টটল একদিকে ছিলেন মহাজ্ঞানী, অন্যদিকে একজন সার্থক শিক্ষকও। ৩৮৪ খ্রীষ্ট পূর্বে থ্রেসের অন্তর্গত স্তাজেইরা শহরে অ্যারিষ্টটল জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা ছিলেন একজন চিকিৎসক এবং তার নাম হল  নিকোমাকাস। অ্যারিষ্টটল ছিলেন বহু দার্শনিক তত্ত্বের প্রবক্তা। তার এই চিন্তা শক্তি এবং জ্ঞান মনীষা মানব সভ্যতা বিকাশে প্রায় দুই হাজার বছর কাজ করে আজও এগিয়ে যাছে।

অ্যারিষ্টটলের শৈশব জীবনঃ

অ্যারিষ্টটল শৈশবে অন্যদের মত তেমন পড়াশুনার সুযোগ পায়নি, সে ছোটবেলাতে তার গৃহেই পড়াশুনা করেন। তার বয়স যখন ১৭ হয় তখন তার বাবা-মা দুই জনই মারা যান। যার ফলে সে তার গৃহত্যাগ করেন। আর ঘুরতে ঘুরতে এক সময়ে এথেন্সে এসে উপস্থিত হন। সেই সময়ে প্লেটো নতুন করে গড়ে তুলেন শিক্ষার প্রধান এ্যাকাডেমি এথেন্সয়ে এ।যা ছিল প্লেটোর শিক্ষক সক্রেটিস এর। অ্যারিষ্টটল  সেখানে ভর্তি হন। নিজের যোগ্যতা এবং দক্ষতা দেখিয়ে অল্প কিছু দিনের মধ্যেই এ্যাকাডেমির সেরা ছাএ হয়ে ওঠেন। এই সময়ের মধ্যেই তার আসাধারণ বুদ্ধিমতা ও জ্ঞেনে মুগ্ধ হয়ে গিয়েছিলেন সবাই।

 অ্যারিষ্টটলের শিক্ষাদান ও পান্ডিত্যঃ

অ্যারিষ্টটল শুধু শিক্ষাদান নয় এছাড়াও নানান বিষেয় গবেষণা মূলক কাজ ও করতেন যেমনঃ তর্কবিদ্যা, অধিবিদ্যা, প্রকৃতিবিদ্যা, জীববিদ্যা, নীতিশাস্ত্র। অল্প কিছু দিনের মধ্যেই তার এই অসাধারাণ গভীর জ্ঞান , পান্ডিত্যের কথা সবার মুখে মুখে ছড়িয়ে যায়। তার  জ্ঞানের কথা পৌছে যায় ম্যাসিডনের রাজা ফিলিপের কাছেও। রাজা ম্যাসিডনের  পুএ আলেকজান্ডারের জন্মের পরই তার শিক্ষায় ভার দেওয়া হয় অ্যারিষ্টটলের উপর। সেই সময়ে তার বছর ছিল আটাশ বছর যে কিনা ছিলএকজন দুরন্ত যুবক।

রাজা ফিলিপের আমন্ত্রণে অ্যারিষ্টটল তার রাজ প্রসাদে আসে এবং সেই সময়ই আলকেজান্ডারের ভার তার উপরে দেয়। তখন আকেলজান্ডারের বয়স ছিল তোরো  বছরের কিশোর। আকেলজান্ডারের অদম্য মনোবল লৌহকঠিন দৃঢ় চরিএ গড়ে তুলতে সাহায্যে করেছিল তার শ্রেষ্ঠ শুরু অ্যারিষ্টটল এর শিক্ষার উপদেশই। অ্যারিষ্টটল ও আলেকজান্ডাররের এই গুরু ও ছাএের একটা জায়গায় খুব মিলছিল । তাদের দুই জনের মধ্যেই প্রচন্ড জয় করার ইচ্ছা ছিল।

আকেলজান্ডার সমগ্র পৃথিবীকে জয় করে তার উপর প্রভৃত্ব করবার প্রবল ইচ্ছা ছিল।
আর অন্যদিকে, অ্যারিষ্টটল ছিল জ্ঞানের নতুন নতুন জগৎ আবিস্কার করে মানুষের জন্য তাকে চালিত করার ইচ্ছা।

অ্যারিষ্টটালের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসাঃ

রাজা ফিলিপ অ্যারিষ্টটলকে গভীর শ্রদ্ধা করতেন। শুধু এইজন্য নয় যে  সে তার পুএের শিক্ষক। রাজা যথার্থ জ্ঞানী হিসাবে তাকে সম্মান করতেন। অ্যারিষ্টটলাল জম্মস্থান স্তাজেইরা ছেড়ে এখানে চলে আসেন এবং আর এখানে চলে আসার কারণ ছিল যে দুর্বৃওের হাতে ওই স্থান ধবংস হয়ে গিয়েছিল এবং ওখানকার সাধারণ মানুষ বন্দী জীবন যাপন করছিল। পরর্বতীতে, অ্যারিষ্টটলের ইচ্ছায় রাজা ফিলিপ দুর্বৃওের হাত থকে স্তাজেইরা উদ্ধার করেন এবং ওই ধ্বংসস্তূপের শহরকে নতুন রুপে গড়ে তুলেন।

রাজা ফিলিপসের ছেলে আলেকজান্ডার ও তার শিক্ষক অ্যারিষ্টটলকে আসীম শ্রদ্ধা করতেন। তাই তিনি বলতেন, “পিতার কাছে পেয়েছি আমার এই জীবন আর গুরুর কাছে শিক্ষালাভ করেছি কিভাবে এই জীবকে সার্থক করা যায় তার জ্ঞান”। আলেকজান্ডার তার শিক্ষকে গবেষণার কাজের জন্য বহু মানুষকে নিযুক্ত করেছিলেন, যাদের কাজ ছিল বিভিন্ন ধরনের মাছ, পাখি, জীবজন্তুদের জীবন পর্যবেক্ষণ করা। আর তার বিবরণ সংগ্রহ করে পাঠানো। আলেকজান্ডারের ভালবাসা গুরুর প্রতি এতোটাই ছিল যে পৃথিবীর যেই প্রান্তেই যেকোনো পুথি পান্ডলিপির সন্ধান পাওয়া যেত, যে কোনো মূল্যেই হোক তা এনে গুরুর হাতে দিতেন।

অ্যারিষ্টটলের শেষ সময়/মৃত্যুঃ

আলেকজান্ডার যখন জয়ের নেশায় সৈন্যবাহিনী নিয়ে বের হলেন, অ্যারিষ্টটলও ফিরে গেলেন এথেন্স। যেখানে ছিল শিল্প – সংস্কৃতি শিক্ষার পাঠস্থান। তার বয়স যখন পঞ্চাশ তখন সে এথেন্সে এসে স্কুল স্থাপন করলেন। ওই স্কুলের নাম রাখা হয় লাইসিয়াম। ৩২৩ খ্রীষ্টপূর্বে আলেকজান্ডারের হঠ্যৎ মৃত্যু হয়।

এতদিন যে বীর ছাত্রের ছায়ায় জীবন যাপন করতেন তাতে বিপর্যয় নেমে এল। সক্রেটিসের অন্তিম পরিণতির কথা অজানা ছিল না অ্যারিষ্টটলের। তাই গোপনে এথেন্স ত্যাগ করে উইরিইয়া দ্বীপে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছিলেন। কিন্তু এই স্বেচ্ছানির্বাসের যন্ত্রণা বেশিদিন ভোগ করতে পারেনি অ্যারিষ্টটল। অবশেষে ৩২২ খ্রীষ্টপূর্বে তাঁর মৃত্যু হয়।

আপনি পছন্দ করতে পারেন

বিল গেটস এর জীবনের গল্প বাংলা

আলবেয়ার কামুর জীবনী

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

shares