আলবেয়ার কামুর জীবনী । Albeyar Kamu Biogaphy

Sharing is caring!

আলবেয়ার কামুর জীবনী । Albeyar Kamu Biogaphy: আলবেয়ার কামু একজন কালজয়ী প্রতিভা, যে কিনা বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ নোবেল পুরস্কার বিজয়ী। তিনি এই নোবেল পেয়েছিলেন তার সাহিত্যের জন্য। আলবেয়ার কামু ৭ই নভেম্বর ১৯১৩ সালে মনডোভি নামক স্থানে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা ছিলেম একজন ফ্রান্সের আধিবাসী এবং তার মা ছিলেন স্পেনের। তাদের দুইজনের দ্বিতীয় পুত্রসন্তান হলেন আলবেয়ার কামু এবং তাদের প্রথম পুত্রসন্তানের নাম হল লুসিয়েঁক। 

আলবেয়ারের পরিবার ছিল একটা দ্ররিদ্র পরিবার। তার জন্মের এক বছর পর তার বাবা প্রথম মহাযুদ্ধে মারনে নামক স্থানে মারা যান। এরপর তার মা, বড়ভাই এবং তাকে নিয়ে আলজেরিয়ার রাজধানী আলজিয়াসে একটা শ্রমিক শ্রেনীর আবাসস্থলে গিয়ে উঠলেন। সেখানে তার মা পরিবারের সংসার চালানোর জন্য ঝি এর কাজ নেন

আলবেয়ার কামুর বেড়ে ওঠাঃ 

শৈশব থেকেই আলবেয়ার ছিল বুদ্ধিমান এবংতার খেলাধুলার প্রতি আগ্রহ ছিল অনেক। তিনি ফুটবল, সাঁতার এবং মুষ্টিযুদ্ধে খেলতে খুব আনন্দ পেতেন। ১৯৩০ সাল যখন তার যৌবনের শুরু তখন তিনি যক্ষারোগে আক্রান্ত হয়ে পরেন, যা কিনা বিভিন্ন সময়ে ঘুরে ফিরে তার মধ্যে দেখা যাচ্ছিল। তার এই রোগের কারণে তার খেলার জীবন থেকে ইতি টানতে হয়েছিল এবংতার শিক্ষা জীবনেও বেশ বাধাগ্রস্ত হতে হয়েছিল।

পনের বছর অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে থাকার পর তিনি সিদ্ধান্ত নিলেন নিজের পায়ে দাড়াবার। বেঁচে থাকার তাগিদের বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কাজে নিজেকে জড়িয়েছিলেন। বলে রাখা দরকার, ১৯১৮ সালে কামু প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তি হয়েছিলেন এবং সৌভাগ্যবশত লুই জারমেইন নামক একজন অসাধারণ শিক্ষকের কাছ থেকে শিক্ষাগ্রহণের সুযোগ পেয়েছিলেন।

জারমেইন ১৯২৩ সালে তাকে আল জিয়ার্সের একটা উচ্চবিদ্যালয়ে বৃত্তিলাভ করতে সাহায্য করেন। আর এই কারণেই আলবেয়ার তার নোবেল পুরস্কার ভাষণে তার শিক্ষকের প্রতি কৃতজ্ঞতাবোধ প্রকাশ করে তার নামে এই নোবেল উৎসর্গ করেছলেন।  

বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র থাকা অবস্থায় তিনি জাগ্রেনিয়ার নামক একজন অধ্যাপকের দ্বারা প্রভাবিত হয়েছিল এবংতার কাছ থেকেই সাহিত্য ও দর্শনের জ্ঞান অর্জন করেন। ১৯৩৬ সালে তিনি তার ডিপ্লোমা অর্জন করেন। 

আলবেয়ারা কামুর অর্জনঃ

পর খুব অল্প সময়ের জন্য তিনি আলজেরিয়ান কম্যুনিষ্ট পার্টির একজন সদস্য হয়েছিলেন যা ছিল ১৯৩৪-৩৫। গীতিকাব্যময় প্রবন্ধের একটা ক্ষুদ্র সংকলন, যা ১৯৩৭ সালে প্রকাশিত হয়েছিল, সেটাই কামুর রচিত প্রথম পুস্তক। তাতে তিনি মানুষকে এমনভাবে চিত্রিত করেছিল যেন সে “নিঃসঙ্গ, সাহায্যহীন এবং উলঙ্গ“।

১৯৪৪ সালে ফ্রান্সে স্বাধীনতা ফিরে পেলে আলবেয়ার কামু সাংবাদিক হিসেবে অত্যন্ত প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করেন। 

আলবেয়ারা কামুর উপন্যাস

১৯৪২ সালে প্রথম উপন্যাস “দি স্ট্রেনজার” বা “আগন্তক“, এরপর সে বছরেরই শেষ প্রকাশিত দার্শনিক প্রবন্ধ “দি মীথ অব সিসিফাস” বিদগ্ধ মহলে মোটামুটি সাড়া জাগাতে সমর্থ হয়। 

১৯৪৭ সালে ফরাসি ভাষায় প্রকাশিত তাঁর দ্বিতীয় এবংশ্রেষ্ঠ উপন্যাস হিসেবে চিহ্নিত “দি প্লেগ” – এ প্রতীকের সাহায্যে তিনি নির্মাণ করেছেন একটা ভীতিপ্রদ জগৎ। 

তাঁর কর্মজীবনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত একজন বিদ্রোহের প্রবক্তা ছিলেন। ১৯৫১ সালে প্রকাশিত “দি রেবেল” গ্রন্থের বক্তব্যের সঙ্গে একীভূত হয়ে যাওয়া ধারণাতে — যা হলো “নিহিলিজম” এর উর্ধেব উঠে যাওয়ার – মানবিক সমাজে বিশ্বাস স্থাপণ করার মাধ্যমে। 

আলবেয়ারা কামুর মৃত্যু

১৯৫৬ সালে প্রকাশিত হয়েছিল তাঁর তৃতীয় এবং শেষ উপন্যাস “দিফল“। “অ্যাবসার্ড” নাটকের অন্যতম জন্মদাতা আলবেয়ার কামু ১৯৪৪ সালে পরপর প্রকাশিত “দি ক্যালিগুলা” এবং “দি ম্যালেন তেমডু” নাট্যকর্মসমূহের জন্য তেমন স্বীকৃতি পাননি।আলবেয়ার কামু প্যারিসের অদূরে সেন্স বলে একটা যায়গায় মোটর দুর্ঘটনায় তাঁর মৃত্যু হয় মাত্র ৪৬ বছর বয়সে। 

 

Summary
আলবেয়ার কামুর জীবনী । Albeyar Kamu Biogaphy
Article Name
আলবেয়ার কামুর জীবনী । Albeyar Kamu Biogaphy
Description
আলবেয়ারের পরিবার ছিল একটা দ্ররিদ্র পরিবার। তার জন্মের এক বছর পর তার বাবা প্রথম মহাযুদ্ধে মারনে নামক স্থানে মারা যান। এরপর তার মা, বড়ভাই এবং তাকে নিয়ে আলজেরিয়ার রাজধানী....
Publisher Name
Bangla Amader
Publisher Logo

You May Also Like

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

shares